Showing posts with label বিপ্লবের কবিতা. Show all posts
Showing posts with label বিপ্লবের কবিতা. Show all posts

চেতনায় লারমা কবিতা – Palash Chakma Jumma


চেতনায় লারমা
Palash Chakma Jumma


ওই যে বনে দেখো ডাকছে পাখি
শোষকের শৃংখল ভাঙ্গবে বলে,
শত রক্ত জবা ফুল ফুটছে দেখো
তোমার দেখানো পথে হাঁটবে বলে।।

তাই লারমা তুমি হৃদয়ে চির অম্লান
তুমি শিখিয়ে ছিলে বেঁচে থাকার সংগ্রাম,
তাই লারমা তুমি হৃদয়ে চির অম্লান
তুমি দেখিয়ে ছিলে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।।

জুম পাহাড়ে তুমি জ্বালিয়ে ছিলে
বিপ্লবী চেতনার জীবন প্রদীপ,
অধিকার হারা মানুষের হৃদয়ে
বেঁচে থাকার আশার প্রদীপ।।

তাই লারমা তুমি হৃদয়ে চির অম্লান
তুমি শিখিয়ে ছিলে বেঁচে থাকার সংগ্রাম,
তাই লারমা তুমি হৃদয়ে চির অম্লান
তুমি দেখিয়ে ছিলে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।।

পাহাড়ের বাজে, ঝর্ণার গর্জনে
আজও তোমার আহ্বান শুনি,
জোনাকিরা আজও জ্বলছে আঁধারে
মুক্তির আলো ফোটাবে বলে।।

তাই লারমা তুমি হৃদয়ে চির অম্লান
তুমি শিখিয়ে ছিলে বেঁচে থাকার সংগ্রাম,
তাই লারমা তুমি হৃদয়ে চির অম্লান
তুমি দেখিয়ে ছিলে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।।


বেকারের চিঠি – মণিভূষণ ভট্টাচার্য | Bekarer Chithi kobita


বেকারের চিঠি
মণিভূষণ ভট্টাচার্য 


আমার বয়স যে বছর একুশ পূর্ণ হলো –
ভোট দিলাম।
দ্বিতীয়বার যখন চটের পর্দা-ঢাকা খোপরিতে ঢুকে
প্রগতিশীল প্রতীক চিহ্নে ছাপ মারছি তখন আমি ছাব্বিশ।

ঊনত্রিশ বছর বয়সেও বিশ্বের নিঃস্বতম গণতন্ত্র রক্ষার জন্য
আমার প্রাণ আকুল হয়ে উঠেছিলো।
কিন্তু এ বছর ভোটের দিন সারাদুপুর তক্তপোষে শুয়ে
বেড়ার ফোকর দিয়ে পতাকা-ওড়ানো রিকসার যাতায়াত দেখেছি
কিন্তু ভোট দিতে যাই নি।
 
না, আমি ভোট বয়কট করিনি
ভোট আমাকে বয়কট করেছে।

কারণ আমার বয়স একত্রিশ।
তিরিশের পর সরকারি চাকরি পাওয়া যায় না।
যে সরকার আমাকে চাকরি দেবে না –
সেই সরকার গঠনের জন্য
গায়ে আমার পুলক লাগে চোখে ঘনায় ঘোর –
এরকম আশা করা যায় না।
বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অবশ্য বয়স পাঁচ বছর শিথিলযোগ্য,
কিন্তু আমার ক্ষেত্রে বিশেষ কারণ

বিশেষভাবেই অনুপস্থিত।
অগত্যা সরকারি চাকরি পাবার একটাই উপায় আছে
সার্টিফিকেট জাল করে বয়স কমিয়ে ফেলা।
কিন্তু হে নন্দিত নেতৃবৃন্দ, যদিও আমার চোখের উপর
আপনাদের অনির্বচনীয় লীলাময় জীবন খোলা আছে
তবু জালিয়াৎ হতে পারবো না –
আমার বাবা সৎ ছিলেন।
 
এই গঞ্জের বাজারে, ন্যাড়া ছাতিমতলায়, কাঁচাপাকা চুলে,
পুরু কাচের চশমা চোখে যে বৃদ্ধটি কুঁজো হয়ে
মান্ধাতার আমলের টাইপরাইটারে
আমার এবং আমার মতো শত শত চাকরিপ্রার্থী এবং
ভোটদাতা অর্থাৎ আপনাদের পরমান্নদাতা যুবকের
হাজার হাজার দরখাস্ত টাইপ ক’রে দিতেন –
একদিন ভরদুপুরে তার বুকের বাঁদিকের লজঝড়ে টাইপমেশিনটা
বিগড়ে গেল।
সেই ফাঁকা জায়গায় আমি কলা নিয়ে বসে পড়লাম।
কার্বাইডে পাকানো চালানী মর্তমান কলার রঙ
যদিও বোম্বাই-অভিনেত্রীর চটককেও হার মানায়,
তবু খেতে অতিশয় অখাদ্য, ফলে আমাকে ডাবের সঙ্গে
ভাব জমাতে হোলো।
 
পা ফাক করে দাঁড়িয়ে ধুতি-পাঞ্জাবী শার্ট-প্যান্ট যখন
সরু নল দিয়ে চোঁ চোঁ করে সুমিষ্ট জল টেনে নিতো,
তাদের দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে আমি এই গঞ্জের
ছিন্নবিচ্ছিন্ন মানুষের মর্মান্তিক মহিমাকে স্পর্শ করতাম।
ডাবের খোলাটি ছুঁড়ে দেবার সঙ্গে সঙ্গে, ভিতরে আঙুল ঢুকিয়ে
দেখতাম, অধিকাংশ অমেরুদণ্ডী বুদ্ধিজীবীদের মতোই,
ভিতরে শাঁস আছে কিনা।
 
তারপর চিরুনী ব্লাউজ ধূপকাঠি তরমুজ চাল
হোসিয়ারী মাল এবং ধূর্ত নেতা পূর্তমন্ত্রী হবার জন্য
যত বড় স্বপ্ন দেখে ঠিক সেই আয়তনের মিষ্টি কুমড়ো
অর্থাৎ একের পর এক বহুমুখী বাণিজ্য বিস্তারে আমি
বিড়লাকেও ছাড়িয়ে গেলাম, কিন্তু বেড়ালের ভাগ্যে
শিকে ছিড়লো না। ফলে প্রায় বিনা চিকিৎসায়
মা মারা গেলেন।
 
আমাদের এখানে গত কুড়ি বছরে আধখানা হাসপাতাল
হয়েছে, বাকি আধখানা আর হবে না, কারণ প্রধান রাজনৈতিক
দলের নেতারা অধিকাংশই ডাক্তার এবং তাদের
নার্সিং হোম আছে।
 
রোজ ভোর চারটেয় উঠে আমি যখন বস্তির
গণতান্ত্রিক খাটা পায়খানায় লাইন দিতাম,
মা নিজের – হাতে – দেওয়া ঘুঁটে জ্বালিয়ে চা করে দিতেন।
সেই স্যাঁতসেতে অন্ধকারে ধোঁয়াটে আগুনের সামনে
বসে-থাকা মা- কে আমার ভারতবর্ষ বলে মনে হোতো।
দিদির মৃতদেহ দড়ি কেটে নামাবার পর থেকে
মা একদম চুপ হয়ে গিয়েছিলেন।
যার সঙ্গে দিদির বিয়ে হয়েছিলো সে গরীব ছিলো এবং
ভালো ছিলো। কিন্তু দারিদ্র্য তাকে মহানও করেনি বা
খ্রীষ্ট্রের সম্মানও দেয় নি – এক চোরাকারবারি
শ্রমিকনেতার আড়কাঠিতে পরিণত করেছিলো। সে সেই
নেতাকে মহিলা সরবরাহ করতো –
সেই নেতার সঙ্গে মন্ত্রীর যোগাযোগ ছিলো,
মন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রের যোগ ছিলো,
কেন্দ্রের সঙ্গে পরিধির যোগ ছিলো,
পরিধির সঙ্গে ব্যাস এবং ব্যাসের সঙ্গে
ব্যাসার্ধের সংযোগ ছিলো এবং এইসব সূক্ষ্ম যোগাযোগগুলি
একসঙ্গে গিঁট লেগে একটা মোটা নাইলনের দড়ি হয়ে
দিদির গলায় ফাঁস লাগিয়েছিলো।
 
চাকরি আমার হতো।
জেলার সব ছাত্রদের মধ্যে আমি যদি মাতৃভাষায়
প্রথম না হয়ে আপনাদের পিতৃভাষা অর্থাৎ
ইংরেজিতে প্রথম হতাম, হয়তো আমার বরাত
খুলে যেতো। অথবা আমার বন্ধুরা –
যারা ঠিক ঠিক জায়গায় তেল সরবরাহে
আরব রাষ্ট্রগুলিকেও হার মানিয়েছে –
আমি যদি তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায়
নামতে পারতাম তাহলে আমার গলায়
বাদামের ঝুড়ির বদলে নেকটাই ঝুলতো।
 
গর্তে-ঢুকে-যাওয়া ফ্যাকাসে হলুদ রঙের দুটো চোখের
শূন্য দৃষ্টি এবং একটা অকেজো টাইপ মেশিন ছাড়া
বাবা আমার জন্য আর কিছু রেখে যেতে পারেন নি।
এ বছর জীবনের সর্বশেষ ভোটটি দিয়ে মা চলে গেলেন। ভারতবর্ষ পড়ে রইলো।
 
আমার আর কোনো দায় নেই।
যেহেতু আজকের দর্শন আগামীকালের সংস্কার মাত্র
এখন যদি আমি সন্ন্যাসী হয়ে যাই।
বন্ধুরা বলবে, ‘পালিয়ে গেল’।
বিদেশি টাকায় পুষ্ট যে সব তথাকথিত
জনসেবা প্রতিষ্ঠান আছে – তাতে যদি
ভাতের জন্য ঢুকে পড়ি –
তারা বলবে, ‘ব্যাটা গুপ্তচর’।
যদি আত্মহত্যা করি –
তাহলে, ‘কাপুরুষ’।
আর যদি সোজাসুজি প্রতিবাদ করি –
তাহলে আপনারা, রাজনৈতিক নৈশ প্রহরীরা
কালো টাকার কুমিরদের অন্ধকার পাড়ায় গিয়ে
মাঝরাতে ‘নকশাল’ ‘নকশাল’ ব’লে
ঘেউ ঘেউ করে তাদের জাগিয়ে দেবেন
এমন কি অবস্থা তেমন তেমন বেগতিক দেখলে
আপনাদের সঙ্গে রাশিয়া আমেরিকাও যোগ দেবে।
 
এতদিন চাকরি খুঁজেছি। পাই নি।
এবার ভাবছি আমরাই আপনাদের চাকরি দেবো।
 
আমরা যারা বেকার আধাবেকার ভবঘুরে
বাউন্ডুলে ভিখিরি –
যাদের জমি নেই কিন্তু জমিতে খাটে –
বাড়ি বানায় কিন্তু বাড়ি নেই –
যারা শহরে আলো জ্বালে কিন্তু যাদের কুপিতে তেল নেই –
যারা কারখানা বানায়, কিন্তু কারখানা যাদের
আস্তাকুঁড়ে চালান করে দেয়
যারা কোনোদিন একটা ভালো জামা পরেনি,
সরবত খায় নি,
বেড়াতে গিয়ে পর্বতমালার স্তব্ধ নিরাসক্তি ও মহত্ত্বকে
স্পর্শ করেনি,
যারা জন্মায় আর খাটে, খাটে আর মরে,
যারা পিপড়ের মতো পোকামাকড়ের মতো
শীত-রাত্রির ঝরাপাতার মতো –
সেইসব নিরক্ষর নগণ্য কুঁজো অবজ্ঞাত করুণ
যাদের দেখার জন্য এবং ঠকাবার জন্য আপনারা
বিরাট মঞ্চে উঠে দাঁড়ান –
যারা আগামীদিনের ভারতবর্ষের, গোটা পৃথিবীর এবং
সৌরজগতের মালিক – আমি তাদেরই একজন হয়ে
এই জংশনে স্টেশনে বাদাম বেচে যাচ্ছি।
কশাইয়ের বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলের মতো জীবন আমাদের –
যে-কোনো মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারি – আবার
এই আঙুলের কেন্দ্রীভূত চাপে খোলা ফাটিয়ে বের করে আনা যায়
রাজনৈতিক ক্ষমতার পুষ্টিকর তৈলবীজ, আর সমস্ত শুকনো খোসা
বাতাসে উড়ে যায়, বাতাসের সঙ্গে আকাশ স্পর্শ করে
মানুষের অনন্ত ঘৃণার আগুন –
সেই আগুনের পাশে বসে আছেন আমার মা,
 
আমার দেশজননী।
 
না, ‘বিপ্লব’ শব্দটি শুনলেই আপনাদের মতো
আমার কম্প দিয়ে জ্বর আসে না।


লেনিন ঘুমোবে এবার কবিতা – আহমদ ছফা


লেনিন ঘুমোবে এবার
আহমদ ছফা


ভলগা নদী ধীরে বয়
রেড স্কোয়ারে পুরু হয় বরফের স্তর
ধূসর কুয়াশা ঢাকা ক্রেমলিন শিখর।
বছর বছর ধরে একটানা এক ঠায় দাঁড়িয়ে একাকী
লেনিনের বোবা চোখ প্রশ্ন করে আর কত বাকি।
কেটে গেছে বহুকাল, ঘটে গেছে বহু যুদ্ধ-বহু মন্বন্তর
লেনিনের বুকে বিঁধে কালের নখর।
অগাধ প্রত্যাশা নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বড় ক্লান্ত
শ্রান্ত জানু ঢলে আসে, আর সাধ্য নেই দাঁড়াবার
লেনিন ঘুমাবে এবার...

লেনিন ঘুমোতে চায়
লেনিন ধূলির শিশু ভূমিশয্যা বড় ভালবাসে
সিমেট্রির গভীর থেকে জননীর ডাক ভেসে আসে
আয় যাদু ফিরে আয়। ডেকে ডেকে ভাইটি অস্থির;
মা ও ভায়ের মাঝে ভাইজান পেতে দাও নশ্বর শরীর।
জেগে জেগে লেনিনের দুচোখে ভ্রূকুটি
রাত নেই দিন নেই একঘেয়ে অক্লান্ত ডিউটি
ফুরোয় না, ফুরোবে না— তাই চায় ছুটি।
লেনিনের ছুটি প্রাপ্য তাই
সময় পাহারা থেকে মুক্ত হওয়া চাই।
কেননা জননী ডেকেছে তাকে, ভাই ডাকে আয়
বড় সাধ ঘুমোবার পৃথিবীর পুণ্য মৃত্তিকায়।
অনেক সময় গেছে— সময় সাগর গেছে
একাকী দাঁড়িয়ে, আর সাধ নেই দাঁড়াবার
লেনিন ঘুমাবে এবার।

ভলগার কনকনে হাওয়া হিংস্র ভালুকের মত রোমশ আঁধারে
ক্রেমলিনে ঝুলে থাকা চাঁদ আর তারার বিলাপ
লেনিন শুনেছে চুপে, সারারাত ঝিঁঝির কীর্তন
শুনে শুনে লেনিনের ক্ষেপে গেছে মন।
প্যাঁচা আর ইঁদুরেরা যেই পথে যাওয়া আসা করে,
লেনিনও পালাতে চায় সেই পথ ধরে।
কঠিন ইস্পাত ভল্ট নড়ে ওঠে,
আকাঙ্ক্ষার তীব্র তাপে ফেটে যেতে চায়
নিস্পন্দ পাষান মমি থরথর কাঁপে।
নিশ্চল শাম্রীর দল আগ্নেয়াস্র হাতে হাঁকে হুশিয়ার
থিরে রহ— খাড়া হয়ে ইস্পাত জঠরে,
লেনিন পালাতে চায় সব বাধা সব ধাঁধা করে একাকার
লেনিন ঘুমাবে এবার।

ভুলভ্রান্তি মেনে নিয়ে লেনিন জানাতে চায় সহজ ভাষায়
বিপ্লবের লাল স্বপ্ন— তার মৃত্যু নাই।
ভালবাসা অন্তঃস্থ স্রোতের বেগে পথ কেটে চলে
ফুটন্ত উত্থানমন্ত্র জেগে রয় মানুষের প্রাণের অতলে।
স্তব্ধ হোক জাগরণ, সাময়িক বিপ্লবের কেটে যাক ধার
তবুও প্রথম চোটে মুমুক্ষু মানুষ উঠে দাঁড়াবে আবার।
দোর্দণ্ড পাশব ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষায় প্রভু হতে চায়
লেনিন বইবে কেন সেই সব ক্রুরকর্মা ঠগীদের দায়
কেন লেনিনকে সাজতে হবে আধুনিক ফারাওর সঙ
বুকে পিটে পাথর ইস্পাত বর্ম এবং এবং।
কোটাল স্রোতের মত পরিনির্বাণের বেগ অন্তরে ঘনায়
লেনিন মানুষের ইতিহাসে মানুষের শিশু হতে চায়
তার আগে শুধু একবার মা ও ভায়ের পাশে
বিছায়ে শরীর— পেতে চায় মানবিক উত্তাপের স্বাদ
লেনিন ঘুমাবে এবার।

লেনিন সঠিক জানে মানবিক সম্ভাবনার
অনন্য সম্ভবা বীজ শক্তির ভাণ্ডার তিনি,
মাটিই গন্তব্য তার। মাটির সে উর্বরতা আছে,
নবজন্মে ঝলসে তোলা শুভ্রবুদ্ধ নবীন মানুষ।
ভল্টের আড়ালে বসে ঠিক পায় টের
মাটি পারে পূর্ব পূর্ব প্রজন্মের কলঙ্ক কলুষ
ধুয়ে মুছে-শুদ্ধতর সৃজনের বেগ
ফুৎকারে প্রমূর্ত করা উদ্ভিন্ন অঙ্কুরে।
সর্বাঙ্গীণ বিপ্লবের বোধিসত্ত্ব হয়ে লেনিন জন্মাতে চায় আরো একবার।
তাই তুষারের ফাঁকে ফাঁকে পথ চিনে চিনে
লেনিন পালাতে চায় মাটির গহীনে।
জননী ডেকেছে তাকে ভাই পাশে চায়
লম্বা ঘুম দিতে হবে পৃথিবীর পুণ্য মৃত্তিকায়
লেনিন ঘুমাবে এবার।

চুয়াত্তরের প্রসব যন্ত্রনা এবং – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ


চুয়াত্তরের প্রসব যন্ত্রনা এবং
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ


চিরদিন যে রমনী গভীর বিশ্বাসে
খুলে দিয়েছে শরীরের যাবতীয় পোশাক
সময়ে_অসময়ে, কালে-অকালে
বার বার মেতেছে নিষিদ্ধ অবৈধ সংগমে,
প্রতিবার এক উষ্ম প্রত্যয়ে হয়েছে অন্তসত্ত্বা ।

যে রমনী শুয়ে আছে স্নেহের অশ্লীল ভঙ্গিতে
তার তপ্ত ঘামের সোঁদা ঘ্রাণে একদিন অবক্ষয় ছেড়ে
আমি জ্বলন্ত যুবক হয়ে শুয়ে ছিলাম বিপরীতে ।

বায়ান্নর অবৈধ প্রসব তার স্বপুরুষ আজ
একাত্তরের সন্তান তার যক্ষাক্রান্ত হলো ।
সে যক্ষা একাত্তরের নয়- সে যক্ষা আমার-
সে কঠিন যক্ষা আমাদের সমস্ত শরীরে ।

বিদেশী নোতুন মডেলের দুরন্ত চাকায়
মুছে গেছে জন্মের রক্ত, কিশোরী আকাংখা ।
আমার আধগতি দেখে বন্ধুরা হাসে বলে ‘এ কেমন সন্তান হলো!’