Showing posts with label নজরুলের ইসলামী সংগীত. Show all posts
Showing posts with label নজরুলের ইসলামী সংগীত. Show all posts

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায় – কাজী নজরুল ইসলাম


ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ
কাজী নজরুল ইসলাম


ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়,
আয় রে সাগর আকাশ বাতাস দেখ্বি যদি আয়।।

ধূলির ধরা বেহেশ্তে আজ, জয় করিল দিল রে লাজ,
আজকে খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়।।

দেখ্ আমিনা মায়ের কোলে, দোলে শিশু ইসলাম দোলে,
কচি মুখে শাহাদাতের বাণী সে শোনায়।।

আজকে যত পাপী ও তাপী, সব গুনাহের পেল মাফী,
দুনিয়া হতে বে-ইনসাফী জুলুম নিল বিদায়।।

নিখিল দরুদ পড়ে লয়ে নাম, সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম,
জীন পরী ফেরেশ্তা সালাম জানায় নবীর পায়।


হেরা হতে হেলে দুলে নূরানী তনু ও কে আসে হায় – কাজী নজরুল ইসলাম


হেরা হতে হেলে দুলে নূরানী তনু ও কে আসে হায়
কাজী নজরুল ইসলাম


হেরা হতে হেলে দুলে নূরানী তনু ও কে আসে হায়,
সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা খুলে খুলে যায়-
সে যে আমার কমলিওয়ালা-কমলিওয়ালা।।

তার ভাবে বিভোল রাঙা পায়ের তলে
পর্বত জঙ্গম টলমল টলে,
খোরমা খেজুর বাদাম জাফরানি ফুল ঝ’রে ঝ’রে যায়-
সে যে আমার কমলিওয়ালা-কমলিওয়ালা।।

আসমানে মেঘ চলে ছায়া দিতে,
পাহাড়ের আঁসু গলে ঝরনার পানিতে,
বিজলি চায় মালা হতে,
পূর্ণিমার চাঁদ তার মুকুট হতে চায়-
সে যে আমার কমলিওয়ালা-কমলিওয়ালা।


হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ – কাজী নজরুল ইসলাম


হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ
কাজী নজরুল ইসলাম


হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
দিলাম তোমার চরণ-তলে হৃদয়-জায়নামাজ।।

আমি গুনাহগার বে-খবর,
নামাজ পড়ার ন্ই অবসর।।

(তব) চরণ-ছোঁয়ায় এই পাপীরে কর সরফরাজ।
তোমার ওজুর পানি মোছ আমার পিরান দিয়ে
আমার এ ঘর হোক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে।
যে শয়তানের ফন্দিতে ভাই,
খোদায় ডাকার সময় না পাই।।
সেই শয়তান যাক দূরে,
শুনে তকবীরের আওয়াজ।


মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই – কাজী নজরুল ইসলাম


মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই
কাজী নজরুল ইসলাম


মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।
আমার গোরের পাশ দিয়ে ভাই নামাজীরা যাবে,
পবিত্র সেই পায়ের ধ্বনি এ বান্দা শুনতে পাবে,
গোর আজাব থেকে এ গুণাহ্গার পাইবে রেহাই।
কত পরহেজগার খোদার ভক্ত নবীজীর উম্মত,
ঐ মস্জিদে করে রে ভাই কোরান তেলাওয়াৎ,
সেই কোরান শুনে যেন আমি পরান জুড়াই।
কত দরবেশ ফকির রে ভাই মস্জিদের আঙিনাতে
আল্লার নাম জিকির করে লুকিয়ে গভীর রাতে।
আমি তাদের সাথে কেঁদে কেঁদে নাম জপতে চাই
আল্লার নাম জপতে চাই।


নামাজী, তোর নামাজ হলো যে ভুল – কাজী নজরুল ইসলাম


নামাজী, তোর নামাজ হলো রে ভুল
কাজী নজরুল ইসলাম


নামাজী, তোর নামাজ হলো যে ভুল,
মসজিদে তুই রাখলি সিজ্দা, ছাড়ি ইমানের মূল।।

জামাতে সামিল হয়ে নামাজে,
আউড়ালি মুখে সুরা কোরানের,
ভাব্ লি কি তুই পার হয়ে গেলি, পুলসেরাতের পুল।।

আজ মিলন তীর্থে বাঁধ রে কাতার মনের জায়নামাজে,
সেই আরফাতে তোর নুয়ে দে দিল না ফরমানি লাজে।।

ওজু করে শেষে তৌবার নীরে, তহরিম বাঁধ ভীতু নত শিরে,
বন্দেগী তোর হবে রে কবুল, কিয়ামতে পাবি কূল।।


ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ – কাজী নজরুল ইসলাম


ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
কাজী নজরুল ইসলাম


ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন্ আসমানি তাগিদ।।

তোর সোনা-দানা বালাখানা সব রাহেলিল্লাহ্।
দে জাকাত মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিদ্।।

আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে।
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।।

আজ ভুলে যা তোর দোস্ত ও দুশমন হাত মিলাও হাতে।
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।।

ঢাল হৃদয়ের তোর তশতরিতে র্শিনি তৌহিদের।
তোর দাওয়াত কবুল করবে হজরত হয় মনে উম্মীদ।।


নতুন চাঁদরে তকবীর শোন কয় ডেকে ঐ মুয়াজ্জনি – কাজী নজরুল ইসলাম


নতুন চাঁদরে তকবীর শোন কয় ডেকে ঐ মুয়াজ্জনি
কাজী নজরুল ইসলাম


নতুন চাঁদরে তকবীর শোন কয় ডেকে ঐ মুয়াজ্জনি —
আসমানে ফরে ঈদুজ্জোহার চাঁদ উঠছেে মুসলমেনি।।

এলো স্মরণ করিয়ে দিতে ঈদুজ্জোহার এই সে চাঁদ,
তোরা ভোগরে পাত্র ফলে রে ছুঁড়ে ত্যাগরে তরে হৃদয় বাঁধ।
কোরবানি দে তোরা, কোরবানি দে।
প্রাণরে যা তোর প্রয়িতম আজকে সে সব আন,
খোদারই রাহে আজ তাহাদরে কর রে কোরবান।
কি হবে ঐ বনরে পশু খোদারে দিয়ে,
তোর কাম- ক্রোধাদি মনরে পশু জবেহ কর নিয়ে।
কোরবানি দে তোরা, কোরবানি দে।
বিলিয়ে দেওয়ার খুশরি শরিনি তশ্‌তরিতে আন,
পর রে তোরা সবাই ত্যাগের রঙিন পরিহান।
মোদরে যা কছিু প্রয়ি বিলাব সবে,
নবীর উম্মত তবে সকলে কবে।
কোরবানি দে তোরা, কোরবানি দে।


তৌহীদের মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম – কাজী নজরুল ইসলাম


তৌহীদের মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম
কাজী নজরুল ইসলাম


তৌহীদের মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম,
মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম ।
ঐ নাম জপিলেই বুঝতে পারি খোদাই কালাম,
মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম ।

ঐ নামেরই রশি ধ’রে যাই আল্লাহ্ পথে,
ঐ নামেরই ভেলায় চ’ড়ে ভাসি নূরের স্রোতে,
ঐ নামেরই বাতি জ্বেলে’দেখি লোহ আরশ-ধামে
মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম ।

ঐ নামের দামন ধ’রে আছি , আমার কিসের ভয়
ঐ নামের গুণে পাব আমি খোদার পরিচয়,
তাঁর কদম মোবারক যে আমার বেহেশতী তাঞ্জাম
মুর্শিদ মোহাম্মদের নাম ।